প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
18
শুক্রবার ২২, মে ২০২৬ -- : -- --
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে নিহতের বাসভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সমবেদনা জানান। তিনি পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রামিসার বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
এদিকে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল মিরপুরপল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল মিরপুর
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক হওয়ার পর সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শিশু রামিসা হত্যার এই ঘটনা পুরো দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও পরিবারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।