প্রকাশিত: ০২ মে ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
17
রবিবার ০৩, মে ২০২৬ -- : -- --
ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা যাতে কার্যকর না হয় সেজন্য একটি আইনি নির্দেশনা (ইনজেকশন) জারি করেছে বেইজিং।
শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে।
চীন সরকারের দাবি, ওয়াশিংটনের এই একতরফা নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার’ চরম লঙ্ঘন। এই পদক্ষেপের ফলে তেহরানের তেলের রাজস্ব বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটন যে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল, তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে পাঁচটি শোধনাগারের নাম উল্লেখ করেছে সেগুলো হলো-হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি এবং তথাকথিত ‘টি-পট’ শোধনাগার হিসেবে পরিচিত শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল।
এর মধ্যে গত এপ্রিল মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা ইরানের কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল ক্রয় করেছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত বছর মন্ত্রণালয়ের তালিকায় থাকা বাকি চারটি শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের জবাবে চীন সরকার সরাসরি আইনি সুরক্ষা প্রদানের পথ বেছে নিয়েছে। বেইজিং মনে করে, সার্বভৌম একটি দেশের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে এবং জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল, তখন চীনের এই অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের এই ইনজেকশন জারির ফলে মার্কিন ডলার ভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ইরানি তেলের বাণিজ্য অব্যাহত রাখার পথ আরও প্রশস্ত হলো। এটি মূলত ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অবরোধ নীতির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের একটি শক্তিশালী পাল্টা পদক্ষেপ।
চীন বরাবরই ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে কাজ করে আসছে। পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে আসছে, ইরানের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে চীনের এই বিপুল পরিমাণ তেল ক্রয় সরাসরি ভূমিকা রাখছে। তবে চীন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে কোনো দেশের চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য নয়।
এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক স্নায়ুযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীন তার নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া অব্যাহত রাখবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই