মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২৬

মঙ্গলবার ২৬, মে ২০২৬ -- : -- --

জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী আজ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম

18

বাংলা সাহিত্য জগতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামটি বিদ্রোহ, সাম্য ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে জ্বলজ্বল করছে। শতাব্দীর অনেক বছর পেরিয়েও বৈষম্য আর বিভেদের এ পৃথিবীতে বারবার ফিরে আসে তার উচ্চারণ ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই’।

বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের হৃদস্পন্দন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ সোমবার (২৫ মে) সেই প্রতীকের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে এই অনন্য সাহিত্যিককে।

শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন নজরুল। তার লেখনীতে যেমন ছিল বিদ্রোহের ঝংকার, তেমনি ছিল মানবতার আহ্বান। ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে এক কাতারে দেখার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

মাত্র চার দশকের সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি। ‘বিদ্রোহী’, ‘সাম্যবাদী’, ‘অগ্নিবীণা’ কিংবা ‘দোলনচাঁপা’ -তার প্রতিটি সৃষ্টিই বাংলা সাহিত্যে নতুন শক্তি ও চেতনার জন্ম দিয়েছে।

নজরুলের সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নারীর অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একইসঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন তিনি। ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত ও ভক্তিগীতিতেও ছিল তার সমান বিচরণ।

জীবদ্দশায় যেমন মানুষকে ভালোবেসেছেন, মৃত্যুর পরও তেমনি মানুষের কাছেই রয়ে গেছেন এই কবি। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। প্রতিদিন সেখানে ভিড় করেন নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা বলছেন, নজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে তার সাহিত্য ও সংগীতকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগও চলছে।

জাতীয় কবির জন্মদিনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

Link copied!