প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
14
রবিবার ১০, মে ২০২৬ -- : -- --
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
এদিকে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
জানা যায়, এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আজ বিচারক মোহিতুল হক ২৮ আসামির বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান। এরপর কাঠগড়ায় থাকা চার আসামিকে দোষ স্বীকার করবেন কিনা জিজ্ঞেস করা হয়। জবাবে নিজেদের নির্দোষ দাবিসহ ন্যায়বিচার চেয়েছেন তারা। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশসহ সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ জুন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে, সকালে এ মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন- নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
পলাতকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হুদয়, মাইনুল হইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন।
এসময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, তারেক আবদুল্লাহ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগে প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।