সোমবার ০৪, মে ২০২৬

সোমবার ০৪, মে ২০২৬ -- : -- --

ময়মনসিংহে ৩৪ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

37

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিলীনের পথে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়কের ট্রাফিক সিগনাল লাইট। সড়কে যানজট নিরসন ও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৩৪ বছর আগে স্থাপন করা হয় এসব বাতি। তবে এরপর থেকে বাতিগুলো জ্বালাতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন নগরের বাসিন্দারা।

এই পরিস্থিতিতে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ময়মনসিংহে এখনও অ্যানালগ পদ্ধতিতেই চলছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ। নজরদারি না থাকায় চুরি হয়ে যাচ্ছে খুঁটি, বৈদ্যুতিক তার ও লাইট। তবে প্রায় ৩৪ বছর আগে কত টাকা ব্যয়ে এসব সিগন্যাল বাতি বসানো হয়েছিল তার হিসাব সংশ্লিষ্টদের কাছে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যানজট ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ১৯৯২ সালে ময়মনসিংহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে স্থাপন করা হয় ট্রাফিক সিগনাল লাইট। স্থাপনের পর থেকেই আলোর মুখ দেখেনি এই সিগন্যাল লাইটগুলো। আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে এখন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায়।

শহরের ব্রিজের মোড়, গাঙ্গিনারপাড়, তাজমহল, নতুনবাজার, চরপাড়া, টাউন হল মোড়ে এখনও দেখা মেলে জরাজীর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল বাতিগুলো। দেখভালের অভাবে চুরি হয়ে গেছে অনেক খুঁটি, ক্যাবল ও লাইট।  কোথাও কোথাও এসব বাতির খোপে বাসা বেধেছে পাখি।  অন্যদিকে বাড়ছে ব্যস্ত শহরে বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনা।

গাঙ্গিনারপাড় এলাকার পথচারী সাবিনা ইয়াসমিন রুবি জানান, মাথার উপর ট্রাফিক লাইট দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এগুলো জ্বলতে দেখিনি৷ এগুলো যদি চালু নাই করা হয় তাহলে এগুলো বসানোর কোনো মানে ছিলো না।

তাজমহল এলাকার বাসিন্দা সুশান্ত পাল জানান, শহরে মানুষ বেড়েছে। মানুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহন। এই অতিরিক্ত যানবাহন থেকে সৃষ্ট যানজট নিরসনে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট গুলো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোনো কাজেই আসেনি। যদি এগুলো আবার সচল করা যেত তাহলে শহরের যানজট অনেকটাই কমে যেত।

নতুনবাজার এলাকার পথচারী মাহমুদুল হাসান রতন জানান, কথা ছিলো লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থামবে, হলুদ বাতি জ্বললে একটু অপেক্ষা করতে হবে আর সবুজ বাতি জ্বললে গাড়ি চলবে। এটা ছিলো আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা। কিন্তু এই আধুনিক যুগে আমরা কি দেখছি? আমরা এই অসহনীয় যানজট থেকে মুক্তি চাই।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট হচ্ছে চরপাড়া মোড়। পাশেই রয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন শত শত অ্যাম্বুলেন্স এই সড়ক দিয়ে আসে বিভিন্ন জেলা থেকে। সিরিয়াস রোগীদের নিয়ে জ্যামে বসে থাকতে হয় চালকদের। এই এলাকাতেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বসানো হয়েছিলো সিগন্যাল লাইট। কিন্তু অন্যান্য এলাকার মতো এখানের বাতিগুলোর বেহাল অবস্থা।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি সচেতন নাগরিক ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন জানান, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেখানে ডিজিটাল হওয়ার কথা সেখানে আমরা ডিজিটাল ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে অ্যানালগ ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছি। ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকতার ছোঁয়া ছিলো এই ট্রাফিক সিগনাল লাইট। কিন্তু আজ সেগুলো অকেজো। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে৷ কর্তৃপক্ষের গাফেলতির কারণে অনেক জায়গায় এই মূল্যবান সম্পদগুলো উধাও হয়ে গেছে। মাদকসেবীরা এগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনে চোখের সামনে এতো কিছু ঘটলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ট্রাফিক সিগনাল লাইটগুলো ১৯৯২ সালে স্থাপন করা হয়। সেই সময় সাধারণ মানুষ এবং চালকদের এগুলো ব্যবহারে কোনো জ্ঞান ছিলো না। এই কারণে বন্ধ থাকতে থাকতে এগুলো এখন অচল। এগুলোকে আবার সচল করতে হলে নাগরিক ও চালকদের কাউন্সিলিং করাতে হবে। এগুলো ব্যবহারে সচেতন করতে হবে। তারপর লাইটগুলো সচল করতে হবে।

সুত্র: ইত্তেফাক

Link copied!