প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
12
বুধবার ২২, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সময়মতো জরুরি চিকিৎসা ও আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্ট না পাওয়ার কারণে একের পর এক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গে মোট ২২৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। আইসিইউ ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার চরম অব্যবস্থাপনায় এই মৃত্যুহার বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩ হাজার ৮০৫ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ৯৩৫ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৩৮ জন এবং হামের উপসর্গে ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৭ হাজার ৮৫ জন রোগী।
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও মিটফোর্ডসহ প্রধান হাসপাতালগুলো রোগীর ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। শিশু হাসপাতালে মাত্র ১৪টি আইসিইউ শয্যা থাকায় সংকটাপন্ন অনেক শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি রাজশাহীতে এক শিশুর মৃত্যুর পরদিন আইসিইউ সিরিয়াল পাওয়ার ঘটনাটি স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক আক্ষেপ করে বলেন, "চোখের সামনে আইসিইউর অভাবে শিশুরা মারা যাচ্ছে, এটি মেনে নেওয়া যায় না।"
বিগত সরকারের আমলে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে আইসিইউ কর্নার করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার সিংহভাগই এখন অচল। কোথাও যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই অ্যানেসথেসিওলজিস্ট বা টেকনিশিয়ান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্তমানে দুই সহস্রাধিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। ঢাকার বাইরে আইসিইউ ও জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় প্রান্তিক অঞ্চলের রোগীরা জীবন বাঁচাতে ঢাকা অভিমুখী হচ্ছে, যা রাজধানীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা সময়মতো নিতে না পারা হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে, যেখানে আইসিইউর নামে চলছে ‘গলাকাটা বাণিজ্য’। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা খরচ জোগাতে নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।
আইসিইউ সংকট নিরসনে সোসাইটি অব অ্যানেসথেসিওলজিস্ট-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামাল আহমেদ জানান, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ চালুর জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, "হামপ্রবণ জেলাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিইউ চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।"
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বাজেটে এ জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে।”