বৃহস্পতিবার ০৭, মে ২০২৬

বৃহস্পতিবার ০৭, মে ২০২৬ -- : -- --

জুনের মধ্যেই মাঠে থাকা সব সেনা ব্যারাকে ফিরবে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম

16

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সহায়তায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সেনাবাহিনীর সদস্যদের আগামী জুন মাসের মধ্যেই ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর ও বড় জেলা থেকেও সদস্যদের ফিরিয়ে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে থাকা সব সেনাসদস্য ব্যারাকে ফিরে যাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার কোর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার ছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নিলে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। পরে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম ব্যাহত হলে সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালের আগস্টেই বলেছিলেন, পুলিশ পুনর্গঠিত হলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। পরবর্তীতে কিছু সদস্যকে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হলেও নির্বাচনের সময় তারা মাঠেই ছিলেন।

বর্তমানে সারা দেশে মাঠপর্যায়ে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কারণে সদস্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার তাদের প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

বৈঠকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থাকা কিছু মামলার বিষয়েও আলোচনা হয়। যেসব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নেই, তাদের জামিনে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে মত হয়। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে হয়রানি না করার নির্দেশনাও দেওয়ার কথা জানা গেছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ আমলে দেওয়া কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের গানম্যান প্রদান, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে মামলা এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে পুলিশের পোশাক নেভি ব্লু শার্ট ও খাকি প্যান্টই থাকছে।

Link copied!