মঙ্গলবার ২৮, এপ্রিল ২০২৬

মঙ্গলবার ২৮, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

সংসদে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতিতে স্পিকারের অসন্তোষ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ এএম

19

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং বিলম্বে উপস্থিত হওয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কোনো রাষ্ট্রীয় কাজ হতে পারে না।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যরা যখন তাদের নিজ এলাকার উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের তা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং নোট নেওয়া উচিত।

এদিন সংসদের কার্যক্রম শুরু থেকেই কিছুটা ছন্দপতনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী অধিবেশনে দেরিতে আসায় গুরুত্বপূর্ণ দুটি জননিবন্ধিত নোটিশ নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর নিষ্পত্তি করতে হয়। মাগরিবের বিরতির আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম ঘোষণা করা হলে তিনি জানান, ‘আমি তো আজকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য সময় চাইনি।’

পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের উদ্দেশে স্পিকার একটি তালিকা দেখিয়ে বলেন, ‘তালিকা তো আপনারাই দেন। প্রথমে ছাপানো, পরে হাতে লেখা। কিন্তু বক্তা তো পাওয়া যায় না।’

তখন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে যাদের তালিকা দিয়েছি, সবার সঙ্গে কমবেশি কথা হয়েছে। হুইপরা সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কথা বলেই তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই অবগত। একটা সমস্যা হচ্ছে—আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত নেই। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ। সবাই তাকে বক্তব্য শোনাতে চান। এ জন্য আমরা অনেক বক্তা পাই না। বাবর সাহেবের সঙ্গে মনে হয় আমাদের হুইপ নুরুদ্দিন সাহেব (মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু) কথা বলেছেন, কথা বলেই নামটা দেওয়া হয়েছে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সামনের সারিতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীকে দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা যখন তাদের এলাকার রাস্তাঘাট বা হাসপাতালের বেহাল দশার কথা বলেন, তখন মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা আবশ্যক। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদের অনুরোধ করবেন, তারা যেন সংসদে এসে সদস্যদের কথা শোনেন।’ স্পিকারের এই মন্তব্যে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে জোরালো সমর্থন জানান।

জবাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, অনেক মন্ত্রী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন বলেই প্রথম সারিতে উপস্থিতি কম। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারিতে প্রায় ৩০ জনের মতো মন্ত্রী উপস্থিত আছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ এবং তিনি উপস্থিত না থাকায় অনেক বক্তা উৎসাহিত বোধ করছেন না। তবে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যগুলো রেকর্ড করা হচ্ছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

স্পিকার তার বক্তব্যে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা যোগাযোগমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর মন্ত্রীদের উপস্থিতি সংসদ সদস্যরা বেশি প্রত্যাশা করেন। এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে সংসদের ফ্লোরে যে আলোচনা হয়, তার মর্যাদা রক্ষায় মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। চিফ হুইপ আশ্বাস দেন যে, স্পিকারের এই কঠোর বার্তা তিনি অনুপস্থিত মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছে দেবেন।

Link copied!