সাংসদ মনিরুল ছিটকে গেলেন যেসব কারণে

0
39

যশোরে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বর্তমান সাংসদেরা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। একমাত্র যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বর্তমান সাংসদ মনিরুল ইসলাম ছিটকে পড়েছেন। এ আসনে নতুন প্রার্থী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাসির উদ্দীনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। নাসির উদ্দীন সংসদীয় এলাকায় অনেকটা নতুন মুখ।খবর যুগান্তরের।

মনিরুল মনোনয়ন পেলেন না কেন, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। সম্প্রতি চৌগাছা উপজেলার এবিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাঁকে বরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্কের ঝড় ওঠে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এমন একটি ভিডিও মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। এ ছাড়া ঝিকরগাছা ও চৌগাছা, দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক কোন্দল রয়েছে। দলের একটি বড় অংশের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনিরুলের দূরত্ব চলে আসছে। এ কারণে নেতা-কর্মীরা ঢাকায় গিয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করে মনিরুলকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসেন। এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রতি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এটিও আরেকটি বড় কারণ বলে দেখছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিব বলেন, সম্প্রতি চৌগাছার একটি স্কুলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মেয়েদের গাঁদা ফুল দিয়ে বরণ করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি করার একটি অডিও রেকর্ডও ভাইরাল হয়েছিল। এ কারণে তিনি ভোটে পাস করলেও নির্বাচন কমিশন নির্দিষ্ট দিনে তাঁকে শপথ নিতে দেয়নি। এটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলেছে দীর্ঘদিন। অনেক পরে তিনি বিতর্কের মধ্য দিয়ে শপথ নেন। শুরু থেকেই তিনি বিতর্কের মধ্যে আছেন। জাতীয় সংসদেও তিনি সত্য-মিথ্যা কথা যুক্ত করে একই বক্তব্য বারবার দিয়ে নেত্রীর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এসব কারণে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাসির উদ্দীনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি সংসদীয় এলাকায় অনেকটা নতুন মুখ।

ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল বলেন, ‘সাংসদ মনিরুলকে বরণের অনুষ্ঠানের ভিডিও ফেসবুকে নেতিবাচকভাবে ভাইরাল হয়েছিল, এটা সত্য। তবে মনোনয়ন পাওয়া না–পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, তা বলতে পারব না। তা ছাড়া কি কারণে মনোনয়ন বোর্ড মনিরুলকে মনোনয়ন দিল না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। নেত্রী যাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁর পক্ষে আমরা কাজ করব।’

চৌগাছা ও ঝিকরগাছা আওয়ামী লীগ বিভক্ত। ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতৃত্বে সাংসদ মনিরুল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহমুদ এবং অপর অংশের নেতৃত্বে যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। এ ছাড়া চৌগাছায় একাংশের নেতৃত্বে সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম হাবিব ও অপর অংশের নেতৃত্বে সাংসদ মনিরুল।

চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিব বলেন, মনিরুল সাংসদ থাকা অবস্থায় কোনো দিন দলীয় কার্যালয়ে যাননি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি দলের সভাপতি। ৪২ বছর ধরে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে বসে এক কাপ চা পর্যন্ত খাননি। দলের বিষয়ে তিনি কোনো দিন খোঁজখবর রাখেননি। এসব কারণে কেন্দ্রের কাছে মনিরুলকে মনোনয়ন না দিতে বলা হয়েছিল। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এতে তাঁরা খুশি।

LEAVE A REPLY