নতুন উদ্বেগ: পান্থপথে ইন্টারনেট বিপর্যয়

0
95

তখনো ভোরের আলো ঠিক সেভাবে ফোটেনি। ২১ নভেম্বরের পাঁচটা, সাড়ে পাঁচটা হবে। বেসরকারি শমরিতা হাসপাতালের প্রহরী মো. বেলাল হোসেনের নজরে এল আগুন। পান্থপথের হক ভবনে পূবালী ব্যাংকের শাখা, সেখানটাই ছিল আগুনের উৎস।খবর যুগান্তরের

আমি বুধবার বিকেলে ধানমন্ডিতে যাচ্ছিলাম। হেঁটে যেতে বেশ কিছু বেসরকারি ইন্টারনেটকর্মীর জটলা দেখে দাঁড়ালাম। দেখলাম, রাস্তায় পরে থাকা কেবল পোড়া ছাই। আর দুর্ঘটনার কারণে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি আমাদের মনে করিয়ে দিল, এই ছোট্ট বিপর্যয়ের পর আমরা কি রাজধানীর ইন্টারনেটের বিপুল পরিমাণের কেবল অব্যবস্থাপনার দিকে নজর দেব?

টিঅ্যান্ডটি কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের খুঁটিগুলোনির্ভর বেসরকারি ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো যে যেভাবে পারছেন, সেভাবে মাইলের পর মাইল কেবলের বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই এক ভয়ানক কেবল অব্যবস্থাপনা বা কেবল–নৈরাজ্য ডেকে এনেছে।

পান্থপথ থেকেই আমরা বুধবার কিছু ছবি তুলেছি, যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য যথেষ্ট যে ইন্টারনেট কেবল ব্যবস্থাপনার খোলনোলচে এই মুহূর্তে বদলানো দরকার। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশকে বরণ করেছি। কিন্তু তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো তৈরির কাজ যথারীতি বাকি রেখে দিব্যি আর দশটা ক্ষেত্রের মতো এখানেও ‘অ্যাডহকইজম’ দিয়ে চলছি।

বুধবার পান্থপথে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এখনো জানি না। হতে পারে ওই দুর্ঘটনা নিছক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা। কিন্তু যে মাত্রায় ইন্টারনেটের কেবল পুড়ে ছাই জমেছে তা অস্বাভাবিক। এটি রাজধানীতে একটি নতুন ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বুধবার দিনভর দলে দলে বিভিন্ন অনলাইন কোম্পানির কর্মীরা শশব্যস্ত কাজ করেছেন। তাদের গাড়িগুলো কখনো যানজট আরও তীব্র করেছে। কিন্তু টিঅ্যান্ডটি বা বিদ্যুৎ বিভাগের কারও উপস্থিতি নজরে এল না।

কেবল পোড়ার কারণে পান্থপথের একটি ভবনে থাকা ওই এলাকার ইন্টারনেট ব্যবস্থার মূল সংযোগস্থল ‘পপ’ থেকে সব কটি কোম্পানির নেটওয়ার্ক আকস্মিক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শিকার হন। কয়েকজন দাবি করেন, এই দুর্ঘটনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানেরও ইন্টারনেট সংযোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। কিছু ইন্টারনেট কোম্পানির ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক, তাদের বিপুল পরিমাণ অপটিক্যাল কেবল পুড়ে গেছে।

আগুনের সূচনা কীভাবে হলো, তার বিবরণ দিয়ে শমিরতা হাসপাতালের প্রহরী মো. বেলাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘খাম্বার মাথায় দেখলাম ছোট করে আগুনের ফুলকি। আমি এরপর দ্রুত হক ভবনে যাই। প্রহরীদের ডেকে তোলার চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কেউ জাগেনি। আমি শমরিতা হাসপাতালের নাইট ম্যানেজারকে গিয়ে বলি, স্যার, পাশের দালানে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিন। আমি দেখলাম মুহূর্তেই আগুন ওপরে ছড়িয়ে গেল।’

হক চেম্বার ভবনের প্রহরী ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, টিঅ্যান্ডটির যে খুঁটিসংলগ্ন স্থানে আগুন দেখা গেছে, সেই খুঁটি প্রায় দুই মাস থেকে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েছিল। ছুঁলেই শক খেতে হতো। এ বিষয়ে টিঅ্যান্ডটিকে অভিযোগ করা হলেও তার প্রতিকার পাওয়া যায়নি। টিঅ্যান্ডটির লোকেরা এসে দেখে যাওয়ার পরেও মেরামতকাজ বাকি থাকে। বিদ্যুতের খুঁটি না হয়েও এটি যে সব সময় গরম থাকত, সেটা স্থানীয়ভাবে সবারই জানা ছিল।

ফারুক দাবি করেছেন, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিভিয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি সংশ্লিষ্টদের চোখ খুলে দিক। যতই দিন যাবে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এখন যেভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে, সেভাবে তো চলতে পারে না।

LEAVE A REPLY