আমজাদ হোসেনের অবস্থার অবনতি

0
89

বরেণ্য চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার এক দিন পর আজ সোমবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন চিকিৎসক দলের প্রতিনিধি শহীদুল্লাহ সবুজ। তিনি জানান, গতকাল রোববার আমজাদ হোসেনের শারীরিক অবস্থা যা ছিল, এখন তার কিছুটা অবনতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে তাঁর রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিভাগের প্রধান, সার্জারি বিভাগের প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান, আইসিইউ বিভাগের প্রধানসহ ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে এমনটা জানানো হয়।

‘গোলাপি এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’, কসাই, ‘নয়নমণি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ ছবিগুলোর নাম নিলেই কাহিনিকার, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক আমজাদ হোসেনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের এই গুণী পরিচালক ও অভিনয়শিল্পী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আগেই জানানো হয়েছে, গতকাল রোববার সকালে বাসায় আমজাদ হোসেনের স্ট্রোক হয়। এরপর তাঁকে দ্রুত ইমপালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে আমজাদ হোসেন চিকিৎসক শহীদুল্লাহ সবুজের তত্ত্বাবধানে আছেন।

প্রখ্যাত এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গতকাল শহীদুল্লাহ সবুজ বলেছিলেন, ‘এটাকে আমরা বলি ইশকেমিক স্ট্রোক। এ ধরনের রোগীর অবস্থা ৭২ বা ৯৬ ঘণ্টা না গেলে বোঝা যায় না। এই সময়টা পার হওয়ার পর তাঁর সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা পাব। তখন তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারব। আমজাদ হোসেনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তিনি এখন লাইফ সাপোর্টে আছেন।’

এদিকে ৩০ ঘণ্টা পার হলেও আমজাদ হোসেনের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিছুটা অবনতি হয়েছে জানান ডা. শহীদুল্লাহ সবুজ। তিনি বলেন, ‘এখনো আমজাদ হোসেন অচেতন রয়েছেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হাসপাতালে আমজাদ হোসেনের ছেলে পরিচালক সোহেল আরমান বলেন, ‘আব্বুর অবস্থা ভালো না। এ অবস্থায় দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সন্তান হিসেবে বাবার জন্য দোয়া চাওয়া আর ছাড়া আর কিছু বলার নেই।’

১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন আমজাদ হোসেন। শৈশব থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চা শুরু। পঞ্চাশের দশকে ঢাকায় এসে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন। প্রথমেই তিনি অভিনয়ে করেন মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ সিনেমায়। এরপর তিনি অভিনয় করেন মোস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’ সিনেমায়। আমজাদ হোসেন একসময় চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতা পুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি। গুণী এই পরিচালক ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।খবর যুগান্তরের।

LEAVE A REPLY