চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বিরল সাদা বাঘশাবক

0
118

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘের খাঁচায় আলো ছড়াচ্ছে সাদার ওপর কালো ডোরাকাটা একটি বাঘশাবক। বেঙ্গল টাইগার দম্পতি রাজ ও পরির ঘরে দেড় মাস আগে এই শাবকটির জন্ম।  খবর প্রথম অালো ।

বন্য প্রাণী ও বাঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদার মধ্যে কালো রঙের ডোরাকাটা এ ধরনের বাঘের জন্ম প্রাণিবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে খুবই ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা। বাংলাদেশে এর আগে এ ধরনের বাঘের বাচ্চার জন্মের কথা জানা যায়নি।

জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, সাদা বাঘ জন্ম নেওয়া একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। মূলত মানুষের শরীরে যেমন মেলানিনের অভাবে শ্বেতী রোগ হয়, তেমনি বাঘেরও হতে পারে। তবে এ ধরনের রোগ হলে বাঘের গায়ে ডোরাকাটা দাগ থাকার কথা নয়। সাদা রং ও ডোরাকাটা দাগ থাকলে বুঝতে হবে এটি জিনগত কারণে হতে পারে। এমন হতে পারে, অতি প্রাচীনকালে এদের পূর্ব পুরুষ কেউ সাদা ছিল, যা জিনগত বৈশিষ্ট্যে প্রচ্ছন্নভাবে ছিল। এই শাবকটির জন্মের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশিত হয়েছে।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল আজিজ বলেন, বাঘের নিকট সম্পর্কের মধ্যে মিলনের মাধ্যমে এ রকম শাবকের জন্ম হতে পারে।

গত ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এই বাঘশাবকটির জন্ম হয়। একই সময় মোট তিনটি শাবক প্রসব করে বাঘিনী। এর মধ্যে একটি বাচ্চা জন্মের পরদিন মারা যায়। বাকি দুটি বাঘশাবক (বাঘিনী) বেঁচে আছে। মারা যাওয়া অপর শাবকটিও সাদা রঙের ছিল।

জন্ম নেওয়ার পর থেকে বাঘের খাঁচাটি ঢেকে দেওয়া হয়। এখনো সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি বাঘশাবকগুলোকে। মানুষের উপস্থিতিতে বাঘ ও বাঘিনী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে এই আশঙ্কা ছিল চিড়িয়াখানার কর্মীদের মধ্যে। গতকাল শুক্রবার ঢেকে দেওয়া পর্দা খানিকটা সরিয়ে এই ছবিগুলো তোলার অনুমতি দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দুটি শাবককে মায়ের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সাদা বাঘটির চোখ, নাক, লেজ সবকিছু সাদা রঙের।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত কিউরেটর শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের জানামতে, বাংলাদেশে সাদা বাঘ নেই।’

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকা দিয়ে বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির দুটি বাঘ কিনে আনা হয় চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় আনার দেড় বছর পর বাঘিনী বাচ্চা দেয়।

LEAVE A REPLY