সেই বুনো উদ্‌যাপনের নেপথ্যে…

0
185
গোল করার পরপরই বুনো উল্লাসে মাতলেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তপু বর্মণ গুলি করার ভঙ্গি করলেন তাতে লুটিয়ে পড়ার ভঙ্গি করলেন ওয়ালি ফয়সাল, বাদশা, মাসুক মিয়া জনিরা। এই উদ্‌যাপনের নেপথ্যে কী ছিল?  খবর প্রথম আলো ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডে গোলটি করেই জার্সি খুলে দৌড়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেন তপু বর্মণ। তাঁকে ঘিরে তখন পুরো বাংলাদেশ দলের বুনো উল্লাস। মাঠে ফিরতে যাবেন, এমন সময় গোল ও সাইড লাইন ঘেঁষে হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে তপুর উদ্দেশে কী যেন বললেন লেফটব্যাক ওয়ালি ফয়সাল। পর মুহূর্তেই তপুর সামনে লাইন ধরে দাঁড়ালেন ওয়ালি নিজে, টুটুল হোসেন বাদশা ও মাসুক মিয়া জনি। তপু হাত উঁচিয়ে গুলি করার ভঙ্গিমা করতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তারা।

এমন উদ্‌যাপনের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে । অনেকের মনে প্রশ্ন, কী ভেবে এমন ভঙ্গিতে উদ্‌যাপনটা সারলেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা! রহস্যটা নিজেই জানিয়েছিলেন তপু , ‘এটা আমার মাথায় ছিল না। আমাদের ওয়ালি ভাইয়ের মাথা থেকে আসছে। উনিই বলেছেন এমনটা করতে।’ তপু এর পেছনের কারণটা আর খোলাসা করেননি।

তপুর গোলেই হেরে গিয়েছে পাকিস্তান। তপুই তো পাকিস্তানের হন্তারক। সে কারণেই তপুকে নেতা বানিয়েই বুঝি ওয়ালিদের এমন উল্লাস। শুধু গতকাল জয়সূচক গোলটিই নয় পুরো ম্যাচের পারফরমেন্সের বিচারেই তপুই তো ছিলেন উজ্জ্বল।

পাকিস্তানের লম্বা এরিয়াল বলগুলো বিপদমুক্ত করতে গিয়ে গতকাল অনেক ঝুঁকি নিতে হয়েছে তপুকে। পাকিস্তানি ফুটবলারদের প্রায় ছয় ফুট উচ্চতা ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী ফরোয়ার্ডদের পা থেকে কতবার যে বল কেড়ে নিয়েছেন—সেটির সাক্ষী বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের হাজার বিশেক দর্শক। সাক্ষী টেলিভিশন আর সামাজিক মাধ্যমে ম্যাচটি ‘লাইভ’ দেখা লাখো দর্শক।

তাঁর দু’পায়ে সব নিখুঁত ট্যাকল, সঙ্গে দুর্দান্ত কভারিং। আর দু’প্রান্ত থেকে ভয় ধরানো সব সেই বুনো, তখন চোখে পড়েছে তাঁর অনুমানক্ষমতা। সঙ্গে লড়াকু মনোভাব এবং প্রচণ্ড সাহস তো ছিলই। সেট পিসগুলোর সময় গোলের প্রচেষ্টাও করে গেছেন ক্লান্তিহীনভাবে। পুরো ম্যাচে তপুর পারফরম্যান্সই যেন ফুটে উঠল উদ্‌যাপনে। তাঁর পারফরম্যান্সে তো কাল গোটা বাংলাদেশই যে আবেগে ধরাশায়ী।

LEAVE A REPLY