খুন-গুম আর রক্তে দেশ ভালো নেই: এরশাদ

0
61

লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়ী করার আহবান জানানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্টানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় নামলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৃহস্পতিবার দিনভর ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও পথসভা করে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি।  খবর নয়া দিগন্ত ।

এরআগে সকাল ১১টায় বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবন থেকে বের হয়ে এরশাদ গুলশানের শাহজাদপুর ঝিলপাড়ে এক জনসভায় বক্তৃতা করেন। এরপর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প মাঠে এবং মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি।
বিকেল তিনটা পর্যন্ত ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তভর্’ক্ত শাহজাদপুর, কড়াইল বস্তি ও মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় গণসংযোগকালে একাধিক পথসভায় বক্তৃতায় এরশাদ বলেন, খুন-গুম আর রক্তে দেশ আজ ভালো নেই। শান্তির বাংলাদেশ এভাবে চলতে পারেনা। মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে, মানুষ বাঁচতে চায়। আমরা মানুষকে বাঁচাতে পথে নেমেছি। আমরা দেশের মানুষকে শান্তি দেবো-মুক্তি দেবো। প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি ছাড়া কেউ এদেশে সুশাসন দিতে পারেনা। আমাদের প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত।
আমরা ৩০০ আসনেই নির্বাচন করবো। তিনি আগামী নির্বাচনে তাকে লাঙ্গল প্রতীকে জয়ী করার জন্য আহবান জানান। এসব পথসভায় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, সফিকুল ইসলাম সেন্টু, আমির হোসেন ভূইয়া এমপি প্রমুখ বক্তৃতা করেন। এসময় জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল ইসলাম নুরু, সুলতান আহমেদ সেলিম, হেলাল উদ্দিন, মোস্তফা আল ফয়সাল, সাইফুল ইসলাম পিটু, আবুল খায়ের, নুরুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, আলাউদ্দিন মৃধা, এএনএম রফিকুল ইসলাম সেলিম, আবুল হাসেম, মোঃ আলী শেখ, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, নুর ইসলাম, আবদুস সাত্তার, মিজানুর রহমান দুলাল, এমএ রহিম খান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত. বুধবার অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায়ও রংপুরের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকে তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়। ওই বৈঠকেই এখনই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলের সর্বোচ্চ ফোরামের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে গতকাল দিনভর নির্বাচনী প্রচারণা চালান এরশাদ।
২০০৮ সালে ঢাকা-১৭ আসন থেকে প্রথম নির্বাচন করে জয়ী হন এরশাদ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতে পারেননি। তবে আগামী নির্বাচনে রংপুরের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও নির্বাচন করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ দূত।
এরশাদ বলেন, আমি যখন ক্ষমতা ছেড়েছি তখন চালের দাম ১০ টাকা ছিলো, নিত্যপন্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিলো। মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণায় যারা উল¬সিত, তারা গ্রামের খবর জানে না। মানুষের কষ্টের খোঁজ রাখে না। সবাই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যস্ত, মানুষের কষ্টের খোঁজ রাখার সময় নেই কারো। তিনি বলেন, খবরের কাগজ খুললেই শুধু মানুষ খুন আর রক্তের খবর, ইচ্ছে করলেই এই খুন বন্ধ করা যায়। কিন্তু কারো খেয়াল নেই, কারো ইচ্ছে নেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে।
এরশাদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসনের এমপি থাকাকালে এই এলাকায় পানির কষ্ট দূর করতে ১৪টি পানির পাম্প বসিয়েছিলাম। আমরা রাস্তা-ঘাট করেছি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করেছি। আবারো সুযোগ দিন, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এখনো বেঁচে আছি। মানুষের দোয়ায় আল্লাহ আামকে বাঁচিয়ে রেখেছেন মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য। তিনি বলেন, লাঙ্গলে ভোট দিবেন, আমরা মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দেবো। আমাদের চেয়ে কেউ বেশি উন্নয়ন করতে পারেনি, কেউ পারবেও না। এসময় আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন কামনা করলেÑ উপস্থিত জনতা হাত তুলে এরশাদকে সমর্থন জানায়।
জাপা মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রাজনীতির জীবন্ত কীংবদন্তী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এদেশের মানুষের পরিক্ষিত বন্ধু। তিনি দেশে সুশাসন, কল্যাণ, উন্নয়ন ও জীবনের নিরাপত্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সব সেক্টরে ব্যর্থ হয়েছে, অথচ এরশাদ সফল ছিলেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনে এরশাদকে নির্বাচিত করতে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চান।

LEAVE A REPLY