মীর কাসেম আলী সম্পর্কে জামায়াতের বক্তব্য

0
137

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামি অর্থনীতিবিদ, সমাজসেবক ও মিডিয়াব্যক্তিত্ব মীর কাসেম আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ গতকাল রোববার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মীর কাসেম আলী ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ দেশে ইসলামি সমাজ গড়ার আন্দোলনে তার অপরিসীম অবদান রয়েছে। খবর নয়া দিগন্ত

বিবৃতিতে তিনি মীর কাসেম আলীকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি এ দেশে কল্যাণধর্মী একটি ইসলামি সমাজ কায়েমের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ইসলামি ব্যাংক-বীমাসহ বহু মসজিদ, মাদরাসা, বিভিন্ন ইসলামি ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ দেশের দরিদ্ররা তার কথা আজীবন স্মরণ করবে। শুধু ইসলামি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণেই সরকার তাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে।

জামায়াত প্রধান বলেন, তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে মীর কাসেমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। সরকারপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনীত কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে এর সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তিনি সম্পূর্ণভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খুবই নির্মমভাবে সরকার মীর কাসেম আলীকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার যে ষড়যন্ত্র করছে তারই অংশ হিসেবে মীর কাসেম আলীকে হত্যা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিশ্চিহ্ন করার হীন উদ্দেশ্যেই মীর কাসেম আলীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে একের পর এক ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার প্রতি ফোঁটা রক্তের বদৌলতে এ দেশে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন আরো মজবুত ও দৃঢ় ভিত্তি লাভ করবে। সরকারের ভূমিকা যে ন্যক্কারজনক তার বড় প্রমাণ হলো ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট রাতে মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী একদল লোক জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। ব্যারিস্টার আরমান তার বাবার আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জামায়াত নেতা বলেন, মীর কাসেমের স্বপ্নের ইসলামি সমাজ কায়েম করার সংগ্রামের মাধ্যমেই তার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি।

LEAVE A REPLY