প্রবাস জীবনের কষ্ট

0
117

অনেক বড় স্বপ্ন ছিল বিদেশ যাব, বিদেশে কতই না সুখ। কতই না টাকা। এখন বুঝি প্রবাস জীবন কি সুখের।

টাকা আছে ঠিকই কিন্তু সুখ নামের সোনার হরিণটা নেই। মায়ের সেই আদরমাখা ডাক নেই- বাবা খেতে আয় সেই সকালে খেয়েছিস, এখনও না খেয়ে কীভাবে আছিস।  খবর যুগান্তর

বন্ধুরা কেউ বলে না বিকালে ফুটবল খেলা আছে তোকে থাকতে হবে। রাতে বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের খেলা আছে একসঙ্গে দেখব। রেসলিংয়ে ব্রকলেসনারের খেলা আছে আরও কত কী! সুখের আশায় মাউন্ড এভারেস্টের ঠাণ্ডা বরফ টপকে অসহ্য যন্ত্রনাকে সঙ্গী করে ওপরে যাচ্ছি।

পা ফসকালে হয়তো ব্যর্থ নয়তো মৃত্যু। এগোতে পারলে বিশ্বজয়। যে ছেলেটির ঘুম ভাঙত সকাল ১০টায়, এখন তার ঘুম ভাঙে ভোর ৫টায়। কাজে যাওয়া কোনোভাবেই মিস করা যাবে না।

যে মানুষটি খাবার তৈরি করতে একটু দেরি হলে ছুড়ে ফেলে দিত সব কিছু, রাগ ভাঙাত সবাই, এখন সেই নিজে রান্না থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়ার কাজ করছে।

কর্মস্থলে বসের নিয়ন্ত্রণ এটা কর, ওটা কর, লেট কেন, ভাষা না বুঝে বিদেশিদের হাসির খোরাক জোগানো ইত্যাদি আরও কত কী। অসহ্য মানসিক টেনশনে দিনের সমাপ্তি।

এর পর রুমে গিয়ে গোসল করতে হবে, রান্না করতে হবে, নামাজ পড়তে হবে। কাপড় ধুতে হবে। এত কিছুর পরও ভালো আছি, সবকিছু ঠিক আছে, বোঝানোর জন্য কষ্টের আড়ালে হাসিমুখে পরিবারকে ফোন দিয়ে নিজেকে চাঙ্গা করার চেষ্টা।

সুযোগ পেলে নিজেকে সবচেয়ে সুখী মানুষের মতো উপস্থাপন করে ক্যামেরাবন্দি হওয়া। অজানা আশংকা ঘুণপোকার মতো কুট কুট করে। বাবা, মা কেমন আছে, ভাইবোন, স্ত্রী-সন্তান সবাই ঠিক আছে তো!

মাকে ফোন দিয়ে কেমন আছ জিজ্ঞাসা করলে মৃদু কণ্ঠস্বরে যখন বলে- ভালো আছি বাবা, তুই কেমন আছিস? বুঝতে সময় লাগে না এরাও আমার মতো অভিনয় শিখে গেছে।

এত কিছুর পরও যে এগিয়ে যেতে হবে পেছন ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। এত কষ্ট করছি কী জন্য। মাসে পরিবার নিয়ে খেয়ে দেয়ে ১০ হাজার টাকা হলে চলে যায়, কিন্তু এত টাকা দিয়ে কি দরকার। কারণ তো একটা আছেই সমাজের কিছু কীটপতঙ্গ আছে ওদের সঙ্গে টক্কর দিতে হবে।

অতীত চলে গেছে কিন্তু ভুলি নাই ওই নরপশুদের কথা। ভবিষ্যৎ চলে যায়নি। মা-বাবার কষ্টের প্রতিদান দিতে হবে। নিজে ও নিজের পরিবারকে সুখে রাখতে হবে।

প্রবাস নামের এই জেলখানায় মৃত্যু হয়েছে অনেক স্বপ্নচারীর। সৌভাগ্য হয়নি নীড়ে ফিরে যাওয়ার। শেষ বিদায় সেটিই যখন দেশ ছেড়ে আসছে।

৫০-৬০ বছরের ক্ষণস্থায়ী জীবনে ৩০ বছর প্রবাসে কাটিয়ে দেয়া মানুষের সংখ্যা কম হবে না।

এদের কেউ অপরাধী, কেউ সাবলম্বী, কেউ আজও ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেনি। এভাবেই চলছে জীবন; নিয়তির এ খেলা কখনই শেষ হওয়ার নয়।

মহাকাল ধরে চলছে, চলবে। আমরা এর পথযাত্রী। স্বপ্ন দেখাটা তো দোষের কিছু না এ জন্য দেখছি। অনেক রাত হয়ে গেছে একটু পর ঘুম থেকে উঠে কাজে যেতে হবে।

LEAVE A REPLY