কেইল্লাবিলের কালিম পাখিগুলো বাঁচাবে কে

0
105

বাড়ির আঙিনায় ঘুরছে ‘বেগুনি কালিম’। পাখিটি দেশে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় রয়েছে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের গিরিধরপুর এলাকায় কেইল্লাবিলে মেলে বিলুপ্ত প্রজাতির কালিম পাখির দেখা। স্থানীয়রা কেইল্লাবিলে আসা পাখি বিক্রি করে জীবিকা চালায়। বেগুনি কালিমের আগমন ও সেই পাখি ধরা ও বিক্রি চলায় এলাকাটিকে কালিম পাখির গ্রামও বলা হয়। তবে বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায় থাকা এ পাখি ধরা বন্ধের দাবি স্থানীয়দের। খবর সমকাল

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের গিরিধরপুর গ্রামেই কেইল্লাবিলের অবস্থান। বিশাল কেইল্লাবিলে দীর্ঘ দিন ধরে শীত মৌসুমে আগমন ঘটে দৃষ্টিনন্দন পাখির। স্থানীয়ভাবে ‘বুড়ি’ পাখি হিসেবে পরিচিতি পেলেও ভালো নাম ‘বেগুনি কালিম’। বিলুপ্তপ্রায় এ পাখির পাঁচটি প্রজাতি আছে সারাবিশ্বে। বাংলাদেশের টাংগুয়ার হাওর, হাকালুকি হাওর, হেইল হাওর ছাড়াও বিল এলাকায় এ পাখি পাওয়া যায়। পাঁচ প্রজাতির ‘কালিম’ পাখির দেখা মেলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ট্রপিক্যাল এশিয়া, ফ্রান্স ও বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে।

বেগুনি কালিম হাওর, বিল, তৃণপূর্ণ স্রোতহীন জলাভূমিতে বিচরণ করে। যেসব জায়গায় ভাসমান বা অর্ধভাসমান পানা, গুল্ম, লতা, শাপলা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে সেসব জলাশয় এদের পছন্দের বিচরণস্থল। এ ছাড়াও লোনা পানির জলাশয়, কাদাভূমি, ধানক্ষেত, বনের ধারে ও মৌসুমি জলাশয়গুলোতেও এরা বিচরণ করতে পারে। বেগুনি কালিমের খাদ্য তালিকার রয়েছে জলজ উদ্ভিদ। এর প্রধান খাদ্য বীজ, শস্যদানা, কচি ঘাস, কচি পাতা, তৃণমূল, কচি জলজ উদ্ভিদ ও তার নরম কাণ্ড, শাপলা ইত্যাদি। এ ছাড়া এরা জলজ পোকামাকড় ও পোকামাকড়ের লার্ভা, মাকড়সা, কেঁচো, জোঁক, শামুক, চিংড়ি, ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, ছোট মাছ, মাছের ডিম ইত্যাদি খায়। জলজ সাপ, গিরগিটি, ছোট পাখি, পাখির ছানা, ডিম, মৃত দেহাবশেষ ইত্যাদি খাওয়ার কথাও জানা যায়। খাবার খাওয়ার সময় এরা লেজের নিচে সাদা অংশ প্রদর্শন করে এবং ডাকে চাক-চাক। ঈশ্বরগঞ্জের কেইল্লাবিলেও প্রতি বছর আগমন ঘটে বেগুনি কালিমের। দলে দলে পাখি আসে কেইল্লাবিলে। তবে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাখি ধরে প্রতি জোড়া এক হাজার থেকে বারোশ’ টাকায় বিক্রি করে।

গিরিধরপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু বাড়ির আঙিনায় রয়েছে কালিম পাখি। কোনো কোনো বাড়ির আঙিনায় ঘুরছে পাখিগুলো। আবার কোনো বাড়ির আঙিনায় খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে এই পাখি। স্থানীয় হেলাল উদ্দিন জানান, গ্রামের অন্তত ১০টি পরিবার কালিম পাখি ধরে। তারা খাঁচায় কিছু পাখি পোষ মানিয়ে নিয়েছে। পোষ মানানো পাখি দিয়ে বুনো কালিম শিকার করা হয়। পাখিগুলো সুন্দর হওয়ায় শৌখিন মানুষের কাছে এর অনেক চাহিদা। প্রতি জোড়া এক হাজার থেকে বারোশ’ টাকা বিক্রি হয়। তিনি বলেন, পাখি ধরা অপরাধ হলেও শৌখিন মানুষের জন্য তাদের পাখিগুলো ধরতে হয়।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল আহাদ বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, খাওয়া, খাঁচায় পালন করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। কেইল্লাবিল এলাকায় আসা বিলুপ্ত প্রজাতির পাখি যেন ধরা না হয়, সে জন্য এলাকায় প্রচার চালানো হবে। পাখি ধরা থেকে বিরত থাকতেও বলা হবে।

LEAVE A REPLY