নির্বাচন কমিশন ও গণতন্ত্র আছে

0
108

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন কমিশনেও গণতন্ত্র আছে। সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার অধিকার একজন কমিশনারের আছে। বাকি চারজন তাঁদের মত দিয়েছেন। সেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সিলেট সার্কিট হাউসে আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে আরপিও সংশোধন নিয়ে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়ে কাদের এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে আওয়ামী লীগের তাতে কিছু করার থাকবে না। নির্দিষ্ট একটা দলের জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির অধিকার, সুযোগ নয়। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সরকার কোনো দলকে সুযোগ দেয় না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইভিএম ব্যবহার দেশের নির্বাচন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। তিনি বলেন, ইভিএম হচ্ছে আধুনিক ভোটিং পদ্ধতি। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দুটি ইভিএমের কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে। তারা জিতলে মানবে, আর হারলেই কারচুপির অভিযোগ তুলবে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হতে পারবে না বলেই নানা রকম অভিযোগ দিচ্ছে।

আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির চার দফা শর্ত প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদের শক্তি, সামর্থ্য আছে, জনগণের প্রতি আস্থা আছে, জনসমর্থনের ব্যাপারে যারা আত্মবিশ্বাসী, তারা এত শর্ত আরোপ করে না। দুর্নীতি মামলার সাজায় কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে না নিলে ‘দেশের মানুষ’ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না, বিএনপির এই বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু কোনো শর্ত দেননি, কারণ জনসমর্থনের প্রতি তাঁর গভীর আস্থা ছিল। আর বাংলাদেশের এখনকার পরিস্থিতিও সে রকম নয়।

ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও বৃহস্পতিবারের সভা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনেও গণতন্ত্র আছে। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ার অধিকার তাঁর আছে। এর জন্য জটিলতা তৈরি হবে কেন? একজনের মত যেমন আছে, গণতান্ত্রিক ধারায় বাকি চারজনেরও মত আছে। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার করতেই আমরা ইভিএম সাপোর্ট করছি। নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের খারাপ ধারণা দূর করতে ইভিএম ভূমিকা রাখবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ২০০১ সালের মতো নির্বাচন ২০১৮ সালে করার চেষ্টা করছে বিএনপি। তবে এই নীলনকশার নির্বাচন দেশে আর হতে দেওয়া হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশে আর আসবে না।

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY